সংস্থাটি জানিয়েছে, গত মার্চে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এফএওর তথ্যনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়াই এ ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ। এফএওর গতকাল প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রধান সব খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লেও এ তালিকায় ব্যতিক্রম কেবল চাল। খবর আনাদোলু ও রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চে বিশ্ববাজারে চিনির দাম অনেক বেড়েছে। গত মাসের তুলনায় চিনির মূল্যসূচক ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। এ অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পেছনে রয়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চড়া দাম। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের শীর্ষ চিনি রফতানিকারক দেশ ব্রাজিল আখ থেকে চিনি তৈরির বদলে ইথানল বা জৈব জ্বালানি উৎপাদনে বেশি জোর দিচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে চিনির সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চিনির বাণিজ্য প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা কাটছেই না। মার্চে এ পণ্যের দাম ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে, যা টানা তিন মাস ধরে বাড়ছে। বিশেষ করে পাম অয়েলের দাম ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জৈব জ্বালানি হিসেবে ভোজ্যতেলের চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি পাম অয়েলের উৎপাদন কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে গমের দামও গত মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় খারাপ আবহাওয়া এবং সারের চড়া দামের কারণে গম চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
বিশ্ব খাদ্য সূচকে খারাপ খবরের মধ্যেও স্বস্তি দিচ্ছে চালের বাজার। এফএও জানিয়েছে, মার্চে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম ৩ শতাংশ কমেছে। মূলত বাজারে নতুন ফসল আসা এবং বড় আমদানিকারক দেশগুলোর চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় এ দরপতন হয়েছে। এছাড়া পৃথক এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি ২০২৫ সালের বিশ্ব খাদ্যশস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে।
এফএওর মতে, আগামী বছর বিশ্বে রেকর্ড ৩০৩ কোটি ৬০ লাখ টন দানা শস্য উৎপাদিত হতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
দানা শস্যের রেকর্ড উৎপাদনের পূর্বাভাস থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টরেবো। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইরান ও ইসরায়েলকেন্দ্রিক এ সংঘাত ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে কৃষি উপকরণের দাম অনেক বেড়ে যাবে। উৎপাদন খরচ সামলাতে না পেরে কৃষকরা সার ব্যবহার কমিয়ে দিতে পারেন বা চাষাবাদ কমিয়ে দিতে পারেন। এতে চলতি বছর এবং আগামী বছরও বিশ্ব খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।’
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ এখন সরাসরি বিশ্ব খাদ্যবাজারে প্রভাব ফেলছে। এর ফলে জ্বালানি তেলনির্ভর চিনি ও ভোজ্যতেলের বাজার দিন দিন আরো ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। তবে পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং নতুন ফসল বাজারে আসায় চালের দাম আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।